২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে এসেছে ৩৫ দশমিক ৫৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী জুন মাসে দেশে মোট ২ হাজার ৮০৬ মিলিয়ন বা ২ দশমিক ৮০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। মাসের শেষ কর্মদিবস ৩০ জুন একদিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
যদিও জুন মাসের রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সামান্য কমেছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে দেশে এসেছিল ২ হাজার ৮২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সে হিসাবে চলতি বছরের জুনে রেমিট্যান্স কম এসেছে ১৭ মিলিয়ন ডলার।
তবে পুরো অর্থবছরের হিসাবে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৩৫ হাজার ৫৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে এসেছিল ৩০ হাজার ৩২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৫ হাজার ২৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় নির্বাহ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সহজতর সেবা এবং সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিদেশে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করে আসছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।