অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষের চিকিৎসা, নিরাপদ পানি, সাপের কামড়ের চিকিৎসা এবং গর্ভবতী মা ও শিশুদের বিশেষ সেবায় স্বাস্থ্যবিভাগ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। মাঠপর্যায়ে ২১ হাজার অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবিলা, জরুরি সাড়াদান ও সমন্বয় বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসাইন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যা শুরুর প্রথম রাত থেকেই ইউনিয়ন থেকে উপজেলা ও জেলা পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। প্রতিদিন বন্যাকবলিত এলাকার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে অ্যান্টিভেনম দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সাপে কাটা কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। মাঠপর্যায়ে ২১ হাজার অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হয়েছে এবং আরও এক হাজার ভায়াল মজুত রয়েছে। সময়মতো হাসপাতালে আনা গেলে চিকিৎসার অভাবে কাউকে মারা যেতে হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যার সময় গর্ভবতী নারী ও শিশুদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো প্রসূতির জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে স্পিডবোট বা প্রয়োজনে স্থানীয় নৌকার মাধ্যমে তাকে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত এ খাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বন্যা-পরবর্তী পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় এরই মধ্যে ৭ লাখ ২৯ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের মজুত রয়েছে আরও ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২টি ট্যাবলেট, যা প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সরবরাহ করা হবে।
তিনি বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বন্যাকবলিত এলাকার নারী, পুরুষ ও শিশুদের আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ কার্যক্রম তুলে ধরে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।