কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে বিদেশি জি-৩ রাইফেল, আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, দেশীয় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের পাশাপাশি প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ৫ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। তবে দুই অভিযানের সময়ই কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজারের টেকনাফ হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া ১৪ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন পাহাড়ে একটি ডাকাত দলের অবস্থানের খবর পায় কোস্ট গার্ড। ওই দলটি অপহরণ ও ডাকাতির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ ও পুলিশের সমন্বয়ে বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোর ৫টায় ওই এলাকায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা পাহাড়ে পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালানো হলে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি বিদেশি জি-৩ রাইফেল (ম্যাগাজিনসহ), দুটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, তিনটি দেশীয় অস্ত্র, ১৩ রাউন্ড তাজা গোলা ও এক লিটার দেশীয় মদ উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, টেকনাফের সাবরাং এলাকায় মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ৮টায় আরও একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ ও সাবরাংয়ের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান চলাকালে ওই এলাকার একটি সন্দেহজনক বসতবাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বাড়িটি থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ৫ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং জব্দ করা মাদকের বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
কোস্ট গার্ডের এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ ও ডাকাতি প্রতিরোধের পাশাপাশি মাদক পাচার ও বিস্তারের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার হচ্ছে।