কোস্ট গার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক

কোস্ট গার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক

নিজস্ব প্রতিবেদক : August 18, 2026

বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা ও Search and Rescue (SAR) কার্যক্রম আরও জোরদারে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শেষে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মোঃ জিয়াউল হক এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোঃ শফিউল বারী এ বিষয়ে তথ্য জানান।

সামুদ্রিক নৌপরিবহন বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। দেশের সমুদ্রসীমা, উপকূলীয় এলাকা, বন্দর ও নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কনভেনশনের আওতায় বাংলাদেশের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

নৌপরিবহন অধিদপ্তর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে Maritime Safety Administration হিসেবে জাহাজের নিরাপত্তা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং জাহাজ থেকে সামুদ্রিক দূষণ প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করে। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সামুদ্রিক এলাকায় আইন প্রয়োগ ও বিভিন্ন অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করে।

দুই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও কার্যপরিধি ভিন্ন হলেও সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের কার্যক্রমের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। এ লক্ষ্যেই নতুন এই সমঝোতা স্মারক প্রণয়ন করা হয়েছে।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্যের সমন্বয়, প্রয়োজনীয় তথ্য ও কারিগরি তথ্য আদান-প্রদান, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও দূষণ প্রতিরোধে যৌথ কার্যক্রম এবং Search and Rescue কার্যক্রমে সহযোগিতা জোরদার করা হবে।

এ ছাড়া যৌথ সভা, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি কার্যক্রম ও জরুরি মহড়ার আয়োজন এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিধিবিধান বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সংরক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই সমঝোতা স্মারক শুধু একটি প্রশাসনিক চুক্তি নয়; বরং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব এবং কোস্ট গার্ডের মাঠপর্যায়ের আইন প্রয়োগ ও অপারেশনাল সক্ষমতার মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করবে।

এর ফলে সামুদ্রিক দুর্ঘটনা ও ঝুঁকি প্রতিরোধ, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া, সামুদ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জাহাজ ও বন্দর নিরাপত্তা জোরদার এবং সমুদ্রে জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সমঝোতা স্মারকে নিয়মিত Compliance Review, Search and Rescue বিষয়ে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী Standard Operating Procedure (SOP) হালনাগাদের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিরাপদ নৌপরিবহন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দায়িত্বশীল ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হবে।

Share This