ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নৌপথে দুর্ঘটনা রোধ ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট লঞ্চ চলাচল নিরুৎসাহিত করছে সরকার। এর পরিবর্তে দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট লঞ্চ পরিচালনায় মালিকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নৌ-মন্ত্রণালয়ের ‘স্থায়ী আদেশ’ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দুর্ঘটনা কমাতে রুট ডিক্লারেশন, নৌ-সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রচার, টার্মিনালে মাইকিং, গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরে মোবাইল কোর্ট এবং অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন ও অনিবন্ধিত নৌযানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে।
নৌপথের নাব্যতা রক্ষায় বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার নদীতে ড্রেজিং চলছে। এ ছাড়া দেশে সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সচল রাখা হয়েছে। কর্ণফুলী নদীতে ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৬১ লাখ ঘনমিটার ক্যাপিটাল ড্রেজিং করে সদরঘাট-বাকলিয়ার চর এলাকায় গভীরতা ৮ মিটারে উন্নীত করা হয়েছে।
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতেও কাজ চলছে। বর্তমানে ১২ মিটার ড্রাফটের জাহাজ চলাচল করতে পারলেও তা ১৬ মিটারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ৮ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার জাহাজ ভিড়তে পারবে। চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ও বে-টার্মিনাল নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে।
এদিকে, ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস চালু হলে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি যানজট কমবে বলে আশা করছে সরকার।
মন্ত্রী জানান, আগের ব্যবস্থাপনায় ১০ বছরে ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এবার ওই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন ব্যবস্থাপনায় ওয়াটার বাস চালু করা হবে।
নদী দখল ও দূষণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিআইডব্লিউটিএর সরাসরি উচ্ছেদের আইনি ক্ষমতা নেই। দখলদারদের তালিকা করে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঢাকার চারপাশের নদীতে দূষণের ৪২৪টি উৎসও চিহ্নিত করা হয়েছে