নেপাল থেকে দেশে ফিরেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা (২৭)। পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে হত্যা, বিস্ফোরক ও মাদকসহ ২৯টিরও বেশি মামলা রয়েছে। অর্থাৎ তার বয়সের চেয়ে মামলার সংখ্যা বেশি।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোহাম্মদপুর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো.ইবনে মিজান।
ডিসি মিজান বলেন, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে মাদক বিস্তারের অন্যতম হোতা হিসেবে পরিচিত ‘পিচ্চি রাজা’ ওরফে রাজা বাদশাহকে বিমানবন্দর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকা এই শীর্ষ মাদক কারবারি নেপাল থেকে ফেরার পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ ও এসবির সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে শুধু মোহাম্মদপুর থানায় পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে বর্তমানে ২৯টি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩টি হত্যা মামলা, ৭টি হত্যা চেষ্টা মামলা, ৪টি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা, ১টি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা, ১টি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা এবং ১৩টি মাদক মামলা। তার বয়স এখনও ৩০ হয়নি, অথচ তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ২৯। বয়সের চেয়েও মামলার ভার বেশি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, জেনেভা ক্যাম্পে মাদকের বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণে পিচ্চি রাজার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করেও তিনি মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছিলেন।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে ডিএমপি ও বাংলাদেশ পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পিচ্চি রাজাকে আদালতে পাঠানোর পর রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তার সহযোগী ও মাদক কারবারের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে কাজ চলছে। এছাড়া তার সঙ্গে থাকা দুই আত্মীয়ের বিরুদ্ধেও কোনো মামলা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিমানবন্দরে আটকের সময় তার কাছে একাধিক পাসপোর্ট ছিল কিনা এবং অতীতে তিনি কোন কোন দেশে গিয়েছেন এসব বিষয়ও তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাদকের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উল্লেখ করে ইবনে মিজান বলেন, লুকিয়ে, পালিয়ে কিংবা আড়ালে থেকে মাদক কারবারি চালিয়ে যাওয়া কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা এবং মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন।