নেত্রকোনায় বিয়ের মাত্র তিন দিনের মাথায় নববধূ রিয়া মনি (সুমাইয়া) নামে এক তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ জুলাই রিয়া মনির সঙ্গে ইমরান নামে এক যুবকের বিয়ে হয়। নতুন সংসার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখলেও সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় মাত্র তিন দিনের মধ্যে। ১৪ জুলাই তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
স্বজনদের দাবি, সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে কোনো এক সময় রিয়ার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর বিষয়টি তাদের স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। স্থানীয় বাজারে ছড়িয়ে পড়া একটি খবরের মাধ্যমে তারা বিষয়টি জানতে পারেন বলে অভিযোগ করেন।
পরিবারের অভিযোগ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পুলিশ রিয়ার মরদেহ বিছানার ওপর দেখতে পায় এবং তার পোশাক বিছানার নিচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। এছাড়া তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং ঘরের দেয়ালে রক্তের দাগ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ওই দাগ চুন দিয়ে ঢেকে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, রিয়ার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেছেন। ফলে ঘটনাটি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রিয়ার পরিবার, স্বজন এবং সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, যথাযথ ফরেনসিক পরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করতে হবে। পাশাপাশি সব আলামত ও তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ, রিয়ার পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তদন্তে দায়ী প্রমাণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
রিয়া মনির মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, বরং নারী নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্নও সামনে এনেছে। তাই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।