পাট রফতানি বাড়াতে দুই মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ

পাট রফতানি বাড়াতে দুই মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : July 21, 2026

বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি সম্প্রসারণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের পাটখাতের কৌশলগত অর্থনৈতিক কূটনীতি ও রফতানি সম্প্রসারণ’ শীর্ষক সমন্বয় সভায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকায় এ সভায় অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম দুই মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং অচিরেই একটি ভিন্ন মাত্রার আন্তর্জাতিক পাট এক্সপো আয়োজনের ঘোষণা দেন। এতে উভয় মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, পাট অধিদপ্তর, পাটশিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন-সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

 

সভার শুরুতেই পরারাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবীত করার বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার পুর্নব্যক্ত করেন এবং পাটখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সোনালি আঁশের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে ‘পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রদর্শনী’র গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষভাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পাটশিল্পের উন্নয়নে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলির সহায়তায় অর্থনৈতিক কূটনীতির উপর জোর দেন।

 

সভায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী বিশেষ উদ্যোগের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং এবং পাটের উৎপাদন উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পাটের নতুন বাজার সম্প্রসারণের উদ্দেশে সরকারের দুই মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি খাতের সমন্বয়ের উপর জোর দেন।

 

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ‘যৌথ কার্যনির্বাহী গ্রুপ’ জাতীয় পর্যায়ে পাট প্রদর্শনীর জন্য কর্মপন্থা ঠিক করা, পাট শিল্পের উন্নয়নে বাণিজ্য বাধা দূরীকরণ, গবেষণা করা এবং মিল-আধুনিকায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে। 

এছাড়া, প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক পাট এক্সপোতে দেশি-বিদেশি ক্রেতা, গবেষক ও বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসমূহে পাটের বাধ্যতামূলক ডিসপ্লে সেন্টার ও গিফট শপ স্থাপন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পাটজাত স্কুল ব্যাগ তৈরির প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং পাটবীজের আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে আগামী ৩ বছরের মধ্যে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করার মাধ্যমে পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।

 

উভয় মন্ত্রণালয় পাটকে একটি আধুনিক জৈব-বৃত্তাকার শিল্পে রূপান্তর, কৃষকের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশকে জলবায়ুবান্ধব পাট-সমাধানের একটি বিশ্বস্ত বৈশ্বিক উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠার অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

Share This