কানাডায় পাঠানোর প্রলোভনে টাকা আত্মসাৎ, নারী গ্রেপ্তার

কানাডায় পাঠানোর প্রলোভনে টাকা আত্মসাৎ, নারী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : September 27, 2026

কানাডার এক কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে ২০ লাখ ১০ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় চক্রের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের প্রকৃত পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করে সিআইডির একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার নারীর নাম নার্গিস বেওয়া ওরফে সালমা আক্তার (২৬)। তিনি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার নয়ানখাল উত্তরপাড়ার বাসিন্দা।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ২টা ১৫ মিনিটে নয়ানখাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, ভুক্তভোগীকে কানাডার একটি কোম্পানিতে চাকরির জন্য পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকার মৌখিক চুক্তি করেন সালমা আক্তার। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৮ মে থেকে একই বছরের ২৪ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে বাদীর কাছ থেকে ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৮৯০ টাকা এবং নগদ ও রকেটের মাধ্যমে আরও ২ লাখ ২৮ হাজার ৮১০ টাকা; মোট ২০ লাখ ১০ হাজার ৭০০ টাকা হাতিয়ে নেন।

টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্তরা কানাডায় যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে বাদীর কাছে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে ওই কাগজপত্র নিয়ে কানাডা অ্যাম্বাসিতে যোগাযোগ করা হলে যাচাই-বাছাইয়ের পর সেগুলো ভুয়া বলে বাদীকে জানানো হয়।

প্রতারণার ঘটনা বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী বাদী কাফরুল থানায় একই বছরের ৭ নভেম্বর মামলা করেন।

তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত নারীসহ চক্রের সদস্যরা পরস্পর যোগসাজশে বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে সেগুলো আসল হিসেবে ব্যবহার করে বাদীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। গ্রেপ্তার আসামি তার প্রকৃত নাম-ঠিকানা গোপন করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিলেন। মামলার তথ্য বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সালমা আক্তার নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Share This