ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হবে উভয় পক্ষের মানুষের পারস্পরিক সুবিধা।
বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এ দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ভারতীয় হাইকমিশনার।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে এই বৈঠকটিকে আমি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করি। এটি খুবই উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, কারণ আমাদের ইস্যু বা বিষয়গুলো সবই এক।
সাংবাদিকদের দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমি আপনাদের বলতে পারি যে, ঐতিহাসিকভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে, এমনকি খেলাধুলা, বিশেষ করে ক্রিকেট নিয়ে আমরা সব বিষয়েই কথা বলেছি। আমি এখান থেকে খুবই আনন্দ নিয়ে ফিরে যাচ্ছি এবং আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে, মন্ত্রীরা আমাকে এতটা সময় দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন যে, আমরা ভিসা উন্মুক্ত করেছি। তাই উভয় দেশের মানুষের পারস্পরিক সুবিধার জন্য ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দিক থেকেই মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত। আর এই সম্পর্ক ঐতিহাসিক। আমরা শুধু সীমানাই ভাগ করে নিই না, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং স্বপ্নও ভাগ করে নিই। তাই বৈঠক খুবই ভালো হয়েছে। আর আমি এমন একটি সম্পর্কের দিকে তাকিয়ে আছি, যার মূল ভিত্তিই হবে উভয় পক্ষের মানুষের পারস্পরিক সুবিধা।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, আমরা এই ধারাবাহিক সম্পর্কের দিকেই তাকিয়ে আছি, যেমনটা বললাম সংস্কৃতি থেকে শুরু করে সঙ্গীত, এমনকি ক্রিকেট পর্যন্ত আমাদের সব কথাবার্তাই হলো। আর এটা তো কেবল শুরু, আমি নিশ্চিত যে আমরা একে অপরের সাথে আরও বেশি যুক্ত হব এবং আমি সেই অপেক্ষাতেই আছি।
তিস্তা ও গঙ্গা চুক্তি নবায়নের ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। আর সৌজন্য সাক্ষাতে যেমন সৌজন্য বিনিময় হয়, তেমনই হয়েছে। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না, এমন কোনো সমস্যা নেই। কারণ দিন শেষে সাধারণ মানুষই মুখ্য। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক, যা উভয় দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের জন্য লাভজনক হবে, সেটাই আসল।
আজকে আমি এটুকু বলতে পারি যে, এটি নিয়ে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ আছে। সেটি আমাদের ভারতেও আছে, বাংলাদেশেও আছে। ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্যরা নিশ্চয়ই নিজেদের মধ্যে মিলিত হবেন বা আলোচনা করবেন। আর যেমনটা আমি বললাম, এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সমাধান করা যায় না। ওয়ার্কিং গ্রুপ অবশ্যই সক্রিয়ভাবে তাদের কাজ করবে এবং আমি বারবার যা বলছি, উভয় দেশের জনগণের জন্য যা কিছু মঙ্গলজনক, তা নিশ্চিতভাবেই ঘটবে, যোগ করেন দীনেশ ত্রিবেদী।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন ভারত সফর করবেন, আমি নিশ্চিত তখন ওয়ার্কিং গ্রুপের কাছে নিজস্ব প্রতিবেদন থাকবে, তাই আমি ইতিবাচক সবকিছুর দিকেই তাকিয়ে আছি। আর আমি আপনাদের বলতে পারি, অনেক ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে আমাদের একটি চমৎকার বৈঠক হয়েছে।