অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ কমিশন কেটে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের একটি বিশেষ দল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন—টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বড় বাশালিয়া এলাকার বাবলু মিয়া (২৮), বাগীল এলাকার মো. মনির হোসেন (৩০), সখিপুরের নূর সাফায়েত ইপ্তি (২৪) এবং তালেপাবাদ এলাকার শামীম আল মামুন (২৯)।
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অনলাইন জুয়া সাইটে ব্যবহারের জন্য নিজেদের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা অর্থের বিনিময়ে এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে অনলাইন জুয়া চক্রের অ্যাডমিনদের কাছে সরবরাহ করতেন। এসব সিম ব্যবহার করে বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলন করা হতো।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে দেশের ভেতর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং সাইটের কার্যক্রমের তথ্য পায় সিআইডি। এসব সাইটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে বেটিং এবং অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনার তথ্যও পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অনলাইন বেটিং সাইটে ব্যবহৃত এজেন্টদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় সিআইডির বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করে।
তদন্তে সিআইডি আরও জানতে পারে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন বেটিংয়ের জন্য এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করা হতো। জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা কমিশন নেওয়ার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সাইবার পুলিশ সেন্টার পরিচালনা করছে। অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-লেনদেন, অর্থপাচার এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে একই মামলায় টাঙ্গাইল, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নড়াইল ও রাজশাহীতে অভিযান চালিয়ে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
অনলাইন জুয়া ও বেটিং থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। একই সঙ্গে এসব কার্যক্রমে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন না করা এবং এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।