লিটারে ৫ টাকা বাড়ার পরই সয়াবিন তেলের বাজার স্বাভাবিক হয়ে গেছে, সব দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই বাড়ছে ডিমের দাম। বৃষ্টির অজুহাতে সবজির বাজারেও নেই স্বস্তি। আগের মতোই বেগুন, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, পটোল ১০০ টাকার নিচে মিলছে না। কাঁচা পেঁপের কেজিও ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এভাবে বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভোক্তারা। তবে বাজারভেদে একই পণ্য ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত সপ্তাহে ডিম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ডজন বিক্রি হলেও গতকাল ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারে ডিম বিক্রেতা মো. কামাল খবরের কাগজকে বলেন, ‘দুই দিন ধরে লাল ডিমের ডজন ১৪০ টাকা ও সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই দিন ধরে দাম বেড়েছে। তাই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’ নিউ মার্কেট কাঁচাবাজারের মুদি দোকানদার মোক্তার হোসেনও বলেন, ‘বেশি দামে ডিম কেনা। তাই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’ একই বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. নাহিদ বলেন, ‘১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে। তাই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব না। অন্য বাজারেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।’
পাইকারিতে বাড়েনি দাম
পাইকারি বাজারে বাড়েনি ডিমের দাম। এ ব্যাপারে তেজগাঁওয়ের আড়তদার মো. হানিফ মিয়া খবরের কাগজকে বলেন, ‘১০০ লাল ডিম ১ হাজার ৫০ টাকা (ডজন ১২৬ টাকা) ও সাদা ১০০ ডিম ৯৪০ টাকায় (ডজন ১১৩ টাকা) বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে এই দামে বিক্রি হচ্ছে।’ তাহলে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ছে কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে এই ডিম ব্যবসায়ী বলেন, ‘খুচরা বিক্রেতারা কেন বেশি দামে বিক্রি করছেন সেটা তারা জানেন। আমরা তো দাম বাড়াইনি। তারা বেশি দামে বিক্রি করলে ভোক্তা অধিদপ্তর বাজার মনিটরিং করুক। তাহলেই দাম বাড়াতে পারবেন না খুচরা বিক্রেতারা।’
অধিকাংশ সবজির কেজি ১০০ টাকা
রমজান মাসের মতো গতকালও বেগুন, শসাসহ অনেক সবজি চড়া দামে বিক্রি হয়। বিভিন্ন বাজারের অধিকাংশ দোকানে কাঁকরোল ১২০ টাকা কেজি, বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ১০০ থেকে ১২০, হাইব্রিড শসা ৭০ থেকে ৮০, দেশি শসা ১০০ থেকে ১২০, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০, শজনে ডাঁটা ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৭০ থেকে ৮০, টমেটো ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গ্রীষ্মকালের সবজি ঝিঙা, ধুন্দুল, চিচিঙাও ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্য সবজিও উচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন আগেও ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে কাঁচা পেঁপে বিক্রি হলেও গতকাল ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. হাবিবসহ অন্য বিক্রেতারা খবরের কাগজকে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে প্রচণ্ড তাপের পর বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এর ফলে সরবরাহ কমে গেছে। এ জন্য সব সবজিই আড়তে বেশি দামে কেনা। তাই কম দামে বিক্রি সম্ভব হচ্ছে না।’ এ সময় মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডের ক্রেতা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘শজনে ডাঁটা ২০০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ১০০ টাকা! এত দাম।’ অন্য ভোক্তারাও লাগামহীন বাজারের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার পরিবর্তন হলেও দাম কমে না। অদ্ভুত ব্যাপার।’
স্থিতিশীল মুরগির দাম
আগের সপ্তাহের মতোই গতকাল সোনালি মুরগির কেজি ৩৬০ থেকে ৩৭০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ ও খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে হাতিরপুল বাজারের খোরশেদ আলী খবরের কাগজকে বলেন, ‘এ সপ্তাহে মুরগির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আগের দামেই বিক্রি করা হচ্ছে।’ মুরগির মতো মাছের দামও বাড়েনি। গতকালও রুই ও কাতল মাছ ৩৬০ থেকে ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। চিংড়ি, কাজলি, ট্যাংরাসহ নদীর অন্য মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া মাছ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বেড়েছে পেঁয়াজের দাম
গত সপ্তাহে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি হলেও গতকাল কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে আগের মতোই আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, আদা ১৬০ থেকে ১৮০, রসুন ১০০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ ও মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, মসুর ডাল ১৬০ টাকা কেজি, ২ কেজির প্যাকেট আটা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।