নির্বাচন ঘিরে মোবাইল ব্যাংকিং সীমিতকরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি

নির্বাচন ঘিরে মোবাইল ব্যাংকিং সীমিতকরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : February 02, 2026

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের সীমা এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণের সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং দেশের কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। গ্রাম ও শহর নির্বিশেষে দিনমজুর, প্রবাসীর পরিবার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, রোগীর স্বজনসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ এই সেবার ওপর নির্ভরশীল। নির্বাচন উপলক্ষ্যে হঠাৎ করে এই সেবা সীমিত করা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য চরম ভোগান্তি, আর্থিক ক্ষতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সাধারণ মানুষ জরুরি লেনদেন, চিকিৎসা ব্যয়, পারিবারিক সহায়তা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটায় মারাত্মক সমস্যায় পড়বেন। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, অনলাইন উদ্যোক্তা এবং ডিজিটাল পেমেন্টনির্ভর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়বে। এর প্রভাব পড়বে মোবাইল ব্যাংকিং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, এজেন্ট ও কর্মীদের আয় ও কর্মসংস্থানের ওপরও।

সংগঠনটি মনে করে, নির্বাচন পরিচালনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ও প্রযুক্তি সেবা সীমিত করা কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়। এতে অপরাধ দমন নয়, বরং সাধারণ গ্রাহক, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ ও বিদেশ থেকে রেমিটেন্স পাঠানো প্রবাসীরা হয়রানির শিকার হবেন।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে আনুমানিক ৬ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে কয়েক কোটি গ্রাহক, লক্ষাধিক এজেন্ট ও হাজারো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এই সেবা সীমিত হলে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন স্থবির হয়ে পড়বে, যার সরাসরি ক্ষতি বহন করবেন সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা সীমিত করার ফলে শুধু গ্রাহক ভোগান্তিই নয়, দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও কর্মসংস্থানের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ কারণে সংগঠনটি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা পূর্ণমাত্রায় চালু রাখার জোর দাবি জানিয়েছে।

Share This