নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের ফল মেনে না নিয়ে কেউ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে র্যাব সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নিতে ‘হেজিটেট’ (ইতস্তত) করবে না।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশজুড়ে র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র্যাব ডিজি বলেন, “ঝুঁকি অবশ্যই আছে। তবে ঝুঁকি তাদের জন্য, যারা নির্বাচন ব্যাহত করতে চাইবে, জালভোট দিতে যাবে, ব্যালট বাক্স ছিনতাই করবে বা ভোটকেন্দ্রে হামলা চালাবে।”
তিনি বলেন, “যারা এসব অপকর্মের চেষ্টা করবে, তাদের প্রচণ্ড ঝুঁকিতে পড়তে হবে। নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নিয়ে নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা হলে র্যাব সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এখানে কোনও ধরনের ইতস্তত করা হবে না।”
র্যাব মহাপরিচালক আরও বলেন, “ঝুঁকি যদি কারও থাকে, তা আইন ভঙ্গকারীদের। র্যাব আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে। আইনের যে ম্যান্ডেট আছে, সে অনুযায়ীই কাজ করা হবে।”
জঙ্গি হামলার কোনও শঙ্কা আছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা কোনও থ্রেট দেখছি না। তারপরও সতর্ক অবস্থানে আছি।”
ঢাকার বিভিন্ন মেসে রাজনৈতিক দলের কর্মীরা উঠেছে—এমন তথ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে র্যাব সতর্ক নজর রাখছে। নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের পর ভোটার বা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া বহিরাগত কেউ এলাকায় থাকতে পারবে না। সন্দেহজনক উপস্থিতি নজরে এলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
র্যাব মহাপরিচালক জানান, নির্বাচন উপলক্ষে এবার সর্বাধিক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও আগের চেয়ে বেশি। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। পুলিশের প্রায় ২৫ হাজার ৭০০ বডি ক্যামেরা রয়েছে। এছাড়া ড্রোন, র্যাবের ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও হেলিকপ্টার প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, “যদি কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং ভোটগ্রহণের মতো পরিবেশ না থাকে, তাহলে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র বা আসনের ভোট স্থগিত হতে পারে—এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। একটি বা দুটি কেন্দ্রে গণ্ডগোল হলে পরে সেখানে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে এবং সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হবে।”
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, র্যাব ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। সারাদেশে র্যাবের প্রায় ৭০০টি টহল দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে।
এছাড়া প্রতিটি ব্যাটালিয়ন ও ক্যাম্পে প্রয়োজনীয় সংখ্যক টহল দল স্ট্রাইকিং রিজার্ভ হিসেবে প্রস্তুত আছে। র্যাব সদর দপ্তরে ৩০টি টহল দল সেন্ট্রাল রিজার্ভ হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
র্যাব ডগ স্কোয়াড ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও কক্সবাজারে এবং র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সাতটি জোনে বিভক্ত হয়ে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
প্রতিটি নির্বাচনি আসনে সাদা পোশাকে র্যাবের গোয়েন্দা সদস্যরা তথ্য সংগ্রহ করছেন। গুজব প্রতিরোধে সাইবার জগতেও নজরদারি চলছে। দেশব্যাপী বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশির মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রিটার্নিং অফিসারের চাহিদা অনুযায়ী র্যাব অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করবে। কোনও এলাকায় অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি হলে রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনায় র্যাব তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেবে।