নির্বাচন ঘিরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার, সতর্ক অবস্থানে সেনাবাহিনী

নির্বাচন ঘিরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার, সতর্ক অবস্থানে সেনাবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক : February 09, 2026

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৩ ইস্ট রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিম আহমেদ বলেছেন, আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে যাতে এই নির্বাচনকে ঘিরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কেউ যাতে কোনো বিশৃঙ্খলতা না করতে পারে।

 

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বিদেশি পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রসহ তিন কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। এ বিষয় জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিম আহমেদ বলেন, গত তিন দিনে ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে এই তিনটা অস্ত্রসহ প্রায় ২১ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

 

আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে যাতে এই নির্বাচনকে ঘিরে এসব অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কেউ যাতে কোনো বিশৃঙ্খলতা না করতে পারে সেজন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত আছি।

 

অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের চাপাইন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গালিব ইমতিয়াজ নাহিদ, রবিউল ইসলাম বাবু ওরফে মেশিন বাবু ও মাসুদ রানা আলভী ওরফে শুটার মাসুদ। এ সময় তাদের আরেক সহযোগী স্বপন শেখ অভিযানের পূর্বেই পালিয়ে যান।

 

‎এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ৭.৬৫ মি. মি. পিস্তল, ২টি ৭.৬৫ মি. মি. পিস্তল, ৪টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ১৫টি ৭.৬৫ মি. মি. পিস্তল এ্যামোনেশন, ৫টি ৬. ৩৫ মি. মি. পিস্তল এ্যামোনেশন, ৬ রাউন্ড শর্টগান, কার্তুজ, ৮টি রামদা ও ৫টি সামুরাই উদ্ধার করা হয়।‎‎অধিনায়ক আরও জানান, গত ১৫ দিনে বসিলা আর্মি ক্যাম্প, মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪টি ও পোস্তগোলার জুরাইন কবরস্থান এলাকা থেকে ১টিসহ সর্বমোট ৫টি পিস্তল উদ্ধার করে। এ ছাড়া পৃথক দুটি অভিযানে একবার ১০ হাজার ও আরেকবার ১২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।‎‎এ বিষয়ে ২৩ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজিম আহমেদ বলেন, ঢাকার সাভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

এর আগে অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত বিভিন্ন আসামি থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে স্বপন অভিযানের আগেই পালিয়ে যান। স্বপন ও নাহিদ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অস্ত্র বিক্রি করেন। তাদের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তিনটি পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

রাজনৈতিক দলের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের এবং পোস্টের নেতা কি না আমরা নিশ্চিত না।

 

আমরা আসলে কোনো রাজনৈতিক দল বা কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে কখনো গ্রেপ্তার করিনি। আমরা গ্রেপ্তার করেছি সন্ত্রাসী হিসেবে, অস্ত্র বিক্রেতা, অস্ত্রধারী হিসেবে। রাজনৈতিক পরিচয় আছে বলে এখন পর্যন্ত আমাদের জানাই নেই।

Share This